WHAT IS INFLUVAX? Leave a comment

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু কি?

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস A এবং B এর কারণে হয়ে থাকে। ফ্লু মাঝারি থেকে মারাত্মক অসুস্থতা ঘটাতে পারে যা কিনা কোন কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ ও হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু এর কারণে প্রতিবছর সারাবিশ্বে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ মারাতৃক অসুস্থতায় ভোগে এবং প্রায় ২.৫ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

সোয়াইন ফ্লু কি?

এক ধরণের ফ্লু যা H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মাধ্যমে হয়। একে সোয়াইন ফ্লু বলা হয় কারণ অতীতে রোগটিতে তারাই বেশি আক্রান্ত হত যারা সরাসরি পিগ বা শুকর দেখাশোনা করত। সময় পরিবর্তনের সাথে ভাইরাস এর মিউটেশন হয়, ফলে যারা শুকর লালন-পালনের সাথে সম্পৃক্ত নয় তারাও এই রোগে আক্রান্ত হতে থাকে। WHO ২০০৯ সালে H1N1 কে Pandemic বা বৈশ্বিক রোগ হিসাবে ঘোষণা করে।

কিভাবে ফ্লু ছড়ায়?

ফ্লু সাধারণত মানুষের হাঁচি, কাশি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যে সমস্ত বস্তুর উপর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থাকে সেগুলি স্পর্শ করার পর যদি ঐ ব্যক্তি তার নাক বা মুখ স্পর্শ করে তবে তা থেকে তার ইনফ্লুয়েঞ্জা হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যক্তি ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ প্রকাশের একদিন পূর্ব হতে ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দেয়ার পাঁচ থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত আরেক জনকে সংক্রমিত করতে পারে।

ফ্লু কখন ছড়ায়?

বিশ্ব ব্যাপি প্রতিবছর এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর গোলার্ধে অক্টোবর হতে এপ্রিল পর্যন্ত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে সেপ্টেম্ববর হতে মে পর্যন্ত এই রোগের প্রাদুর্ভাব থাকে। বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত বলে অক্টোবর হতে এপ্রিল পর্যন্ত এই রোগের প্রাদুর্ভাব থাকে।

ফ্লু এর লক্ষণ সমূহ কি কি?

জ্বর(অধিকাংশ ক্ষেত্রে তীব্র), মাথাব্যাথা, মারাত্নক দূর্বলতা, শুকনো কাশি, গলা ব্যাথা, সর্দি/নাক দিয়ে পানি পড়া, মাংসপেশিতে ব্যাথা, বমিভাব এবংডায়রিয়া হতে পারে। তবে ডায়রিয়া বয়স্কদের তুলনায় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় হয়।

ফ্লু কি কি জটিলতা সৃষ্টি করে?

• নিউমোনিয়া

• অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

• হৃদরোগ ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত

রোগের অবনতি

• মধ্যকর্ণের প্রদাহ

• জ্বর

• মৃত্যু (সাধারণত বয়োবৃদ্ধ)

ফ্লু এবং সাধারণ সর্দি-জ্বর কি একই?

আমরা অনেকেই ফ্লু এবং সাধারণ সর্দি-জ্বর একই রোগ মনে করি। কিন্তু ফ্লু ভাইরাস, সাধারণ সর্দি-জ্বর ভাইরাস হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা সাধারণ দ-জ্বর ভাইরাস হতে অনেক বেশি ভয়াবহতা তৈরি করতে সক্ষম।

ফ্লু কতটা মারাত্বক?

ফ্লু তেমন কোন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে না এবং এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে এই রোগ মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে। ফ্লু এর উপসর্গগুলি অনেকটা সাধারণ সর্দি কাশির মতো। তাই আনেকেই সর্দি-কাশি ভেবে এই রোগকে অবহেলা করে যা কখনো কখনো মারাত্নক জটিল সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধদের (যাদের বয়স ৬৫ বছরের ঊর্দ্ধে) ক্ষেত্রে ফ্লু থেকে সাবধানতা গ্রহন করা অতীব জরুরী। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে ফ্লু এর কারণে যত লোক মারা যায় তার অধিকাংশই বয়োবৃদ্ধ। বয়োবৃদ্ধ ছাড়াও পূর্ণবয়স্ক এবং শিশু যারা শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত রোগ (অ্যাজমা), হৃদরোগ, কিডনিজনিত সমস্যায় ভুকছে তাদের জন্য ফ্লু ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও এই রোগের কারণে কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার বেড়ে যায়।

কাদের ক্ষেত্রে ফ্লু তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচাইতে বেশি?

• অ্যাজমা এবং COPD এর রোগী

• হৃদরোগী,ডায়াবিটিসের রোগী, কিডনি এবং লিভার সমস্যায় ভুকছে

• যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম যেমন এইডস এর রোগী

• অন্যদেশে ভ্রমণকারী

• এছাড়া আরও ফু ঝুঁকিতে আছেন যাদের বয়স

√ ৫ বছরের কম বয়সের শিশুরা বিশেষত ২ বছরের কম যাদের বয়স

√ ৬০ বছরের ঊর্দ্ধে

√গর্ভবতী মহিলা,

কি ভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধ করা যায়?

• স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন করা

• সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে এবং অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড রাব ব্যবহার করতে হবে।

• অকারণে হাত চোখে, নাকে এবং মুখে দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে হাঁচি, কাশির সময় মুখে রুমাল/টিস্যু দ্বারা নাক, মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

• অসুস্থ রোগীর সেবা করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে

ভ্যাকসিনেশন

ফ্লু এর চিকিৎসা বা প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় কি?

বিশ্রাম ছাড়া ফ্লু এর তেমন কোন কার্যকরী চিকিৎসা নেই। তবে কার্যকরী টিকার মাধ্যেমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। WHO এর মতে ফ্লু প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের কোন বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিন কি পাওয়া যায়?

হ্যা, ইনসেপটা প্রথমবারের মত বাংলাদেশ প্রস্তুত

এর ভ্যাকসিন, ইনফ্লুভ্যাক্স।

কারা এ ভ্যাকসিন নিবে?

ফু ভ্যাকসিন ৬ মাস বা তার বেশি বয়সের সকলেই নিতে পারে। US ACIP সুপারিশ অনুসারে নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা ফ্লু এর মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে

থাকে এবং তাদের প্রতি বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। • ৬ মাস হতে ৫৯ মাস পর্যন্ত সকল শিশু

• গর্ভবতী মহিলা

• ৫০ বছর বয়োশোর্ধ সকল ব্যাক্তি

• যে কোন বয়সের ব্যক্তি যারা দীর্ঘ মেয়াদী রোগে আক্রান্ত যেমন

অ্যাজমা বা শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি

• স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সাথে জড়িত সকল ব্যাক্তি • অন্যদেশে ভ্রমণকারী

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এই ভ্যাকসিন এর কোন মারাত্নক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.